খুলনা, বাংলাদেশ | ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  কয়রার কাছারি বাড়ীর বটতলায় ১০দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলা অনুষ্ঠিত।
  আলী আসগর লবীর দ্রুত সুস্থতা কামনায় রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল
  ঈদগাঁওতে নতুন পর্যটন স্পট মাইজ পাড়া ভিউ পয়েন্টে বিনোদন প্রেমীদের ভীড় 
  ডুমুরিয়ার ১৪ ইউনিয়নে সবুজ বনায়ন কর্মসূচি ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ শুরু
  দাকোপের ব্র‍্যাকের উদ্যোগে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
  জালালাবাদে মোহাম্মদিয়া রওদ্বাতুত তাকওয়া মাদ্রাসায় হিফজ সবক অনুষ্ঠান সম্পন্ন
  বিল ডাকাতিয়ায় হাঁটুপানিতে জনজীবন, নৌকায় স্কুলে শিশুরা খাবার-পানি ও গোখাদ্য সংকট, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি
  অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর পরিবারের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সেমিনারে: খুলনা জেলা প্রশাসক  
  ডুমুরিয়ায় ইউআরসি অফিসার মোসলেম আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ
  ডুমুরিয়ার সিঙ্গার বিলে ৭০ হাজার পোনা অবমুক্ত বিল নার্সারির মাধ্যমে বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

বটিয়াঘাটায় প্রতারণার অভিযোগে দুই পরিবারের সর্বস্বান্ত হওয়ার দাবি টাকা ফেরত চেয়ে এমপি ও দলীয় নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ

[ccfic]

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খুলনার বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা ও বটিয়াঘাটা উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মোঃ হেলাল শেখের বিরুদ্ধে। বিএনপি রাজনীতি করায় আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিভিন্ন সময়ে কারা ভোগ ও পলাতক থাকা অবস্থায় বিভিন্ন খাতে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মোহাম্মদ হেলাল শেখ কে এসব টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগী ইউনুস হাওলাদার ও মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। হেলাল শেখের প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া এবং পরবর্তীতে সেই টাকা চাইতে গেলে ফেরত না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকিতে টাকা ফেরত এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা ও বটিয়াঘাটা উপজেলা এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দল নেতৃবৃন্দের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ভুক্তভোগী মোঃ ইউনুস হাওলাদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হওয়ার সুবাদে হেলাল শেখের সঙ্গে ইউনুস হাওলাদারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন সময়ে হেলালকে বিভিন্ন কাজ ও প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দেওয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার হাইকোর্টের কাজের জন্য ৪ লাখ ১১ হাজার টাকা, হোগলাবুনিয়া মৌজায় বরফের ব্যবসার জন্য ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫১ টাকা, হেতালবুনিয়ায় জমি বিক্রয় বাবদ ৩২ হাজার টাকা, বাড়িতে বালু তোলার কাজ বাবদ ৫৫ হাজার টাকা, গুপ্তমারীচর বন্দোবস্ত বাবদ ৬০ হাজার টাকা, গুপ্তমারী শসার দাদার কাজ বাবদ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বগুড়ায় ব্যবসার জন্য ৫৮ হাজার ৬২ টাকা দেওয়া হয়।
এছাড়া একই এলাকার রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে দেওয়া ৫০ হাজার টাকা, শংকর মল্লিকের কাছ থেকে ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা, হোগলাবুনিয়ার জমি বাবদ ১ লাখ ৬ হাজার ৭৬০ টাকা, সাচিবুনিয়ার মিলনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, খুলনা মহানগর বিএনপির এক নেতার সঙ্গে আলোচনার জন্য ১০ হাজার টাকা, থানার ডিএসবি নূর আলম বাবুর জন্য ১০ হাজার টাকা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য ৬ হাজার টাকা, মৎস্য অফিসের জন্য ১২ হাজার টাকা, উপজেলা বিএনপি নেতার জন্য ১০ হাজার টাকা, মাছ ক্রয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা, পার্টির জন্য ২০ হাজার টাকা এবং হেলাল শেখ নিজে নগদ ৮৬ হাজার ৩৫০ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, হেলালের বাবা অসুস্থ থাকাকালীন ৪১ হাজার টাকা, ইজিবাইকের ব্যাটারি বিক্রয় বাবদ ৭৮ হাজার টাকা, বটিয়াঘাটা শ্রমিক দলের পরিচিতি সভার জন্য ১০ হাজার টাকা, মে দিবসের জন্য ২ হাজার টাকা, শ্রমিক দলের অগ্রিম অফিস ভাড়া বাবদ ৩০ হাজার টাকা, শেয়ার ক্রয়ের জন্য ৪ হাজার টাকা এবং ইজিবাইক ভাড়া বাবদ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে এসব খাতে সর্বমোট ২০ লাখ ৪২ হাজার ১০৩ টাকা গ্রহণ করেছেন হেলাল শেখ ।
এদিকে ইউনুস হাওলাদারের অভিযোগ, রাজনৈতিক মামলায় কারাবাসসহ বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে কখনো তিনি নিজে কখনো তার বড় ভাই আব্দুল নাসির হাওলাদারের মাধ্যমে হেলাল শেখকে এসব টাকা দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে টাকা ফেরত চাইলে হেলাল নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে হেলাল নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ইউনুস হাওলাদার আরও জানান, তিনি বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার বড় ভাই আব্দুল নাসির হাওলাদার কালুও বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার পাশাপাশি হেলাল শেখের কাছে পাওনা ২০ লাখ ৪২ হাজার ১০৩ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইউনুস হাওলাদার।অন্যদিকে, একই এলাকার বাসিন্দা ও বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলও হেলাল শেখের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে হেলাল শেখ তার কাছ থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত চাইলে তা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।ভুক্তভোগী দুইজনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও পারস্পরিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী ইউনুস হাওলাদার হেলাল শেখের প্রতারনার শিকার হয়ে গত এক সপ্তাহ আগে এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ সহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত হেলাল শেখ তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেন, বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহবায়ক ইউনুস হাওলাদার কর্তৃক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন।বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে জেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক, সদস্য সচিব ও উপজেলা শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দের কাছে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সেটির সমাধান করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে একই ব্যক্তি আবারো তার নামে ২০ লাখ টাকার অভিযোগ এনে নেতৃবৃন্দের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। এবং মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছে এটি কিভাবে সম্ভব সেই প্রশ্ন করেছেন হেলাল শেখ।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT